প্রোগ্রাম পরিকল্পনার ধাপসূমহ

প্রোগ্রাম পরিকল্পনার ধাপসূমহ

0 192
  • প্রোগ্রাম পরিকল্পনার ধাপসূমহ
    ক্স সুষ্ঠু পরিকল্পনা চাড়া কোনো কাজই সুম্পন্ন হয় না। তাই কোনো প্রোগ্রাম লিখতে হলে সুনির্দিষ্ট কতক-গুলো ধাপে ধাপে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রোগ্রামটি সম্পন্ন হয়। প্রোগ্রাম পরিকল্পনার ধাপসূমহ নিচে দেওয়া হল:
    ১. সমস্যা চিহ্নিত করা.
    ২. সিস্টেম বিশ্লেষন.
    ৩. প্রোগাামের ইনপুট- আউটপুট নির্ণয়.
    ৪. অ্যালগরিদম উন্নয়ন .
    ৫. ফ্লোচার্ট উন্নয়ন .
    ৬. প্রোগ্রামিং ভাষা নির্ধারন.
    ৭. প্রোগ্রাম রচনা.
    ৮. প্রোগ্রাম কম্পাইলেশন.
    ৯. প্রোগ্রাম পরীক্ষণ ও ভুল সংশোধন.
    ১০. ডকুমেন্টশন.
    ১১. ইনস্টলেশন.
    ১২. সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ.
    ক্স সমস্যা চিহ্নিত করা : প্রোগ্রাম পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হচ্ছে সমস্যা চিহ্নিত করা। অর্থাৎ ব্যবহারকারীর চাহদিার অনুযায়ী কোনো সমস্যার জন্য প্রোগ্রাম লিখতে হবে তা চিহ্নিত করা।
    ক্স সিস্টেম বিশ্লেষন : সমস্যা চিহ্নিত করার পর সমস্যা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লষন করতে হবে যা প্রোগ্রামিং পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপসূমহে ব্যবহার করা যাবে।
    ক্স প্রোগাামের ইনপুট- আউটপুট নির্ণয়: এ পর্যায়ে সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনয়ী ইনপুট ও আউটপুটসূমহ নির্ণয় করা হয়। প্রোগ্রাম কোনো ডাটা বা তথ্য ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং উল্লেখিত ডাটর জন্য কী কী আউটপুট আসবে , এর জন্য কোনো কোনো ফর্মুলা সূত্রের ব্যবহার প্রয়োগ করতে হবে তা নির্ধারণ করা যাবে।
    ক্স প্রোগ্রামরে অ্যালগরিদম উন্নয়ন করা : কোনো সমস্যা সম্পর্কে পূর্ন ধারণা এবং তার সমাধানের সূত্র পাওয়া গেলে পরবর্তী কাজ হলো সমস্যা সমাধানের ত্রুমানুযায়ী ধারাবাহিক ধাপসমূহকে লিখিতরুপে প্রকাশ করা। অর্থাৎ প্রোগ্রামটির জন্য অ্যালগরিদম উন্নয়ন করা।
    ক্স ফ্লোচার্ট তৈরি করা : একটি প্রোগ্রাম তৈরি করার পূর্বে প্রোগ্রামটি পর্যায়ত্রুমে একের পর এক কীভাবে কাজ করবে সেই ধাপগুলো চিত্রের বা ছবি মাধ্যমে অথবা ড্রয়িং- এর মাধ্যমে প্রকাশ করাকে ফ্লোচার্ট বলে। প্রোগ্রাম লেখার আগে প্রোগ্রামটি কীভাবে কাজ করবে সেই সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা থাকতে হবে। অনেক সময় প্রোগ্রামের আকার বেশি বড় হলে ফ্লোচার্ট তৈরি করে নিলে কাজ করতে সুবিধা হয়। গ্রাফ দেখে যেমন কয়েকে বছরের ডাটা বা তথ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়, তেমনি ফ্লোচার্ট দেখে প্রোগ্রামের মূল কার্যকারিতা অতি সহজে বুঝা যায়। এতে প্রোগ্রাম অন্য কেউ বিশ্লেষন করতে পারে, প্রোগ্রামিং করতে সুবিধা হয় এবং সময় বাচেঁ। প্রোগ্রামিং করার সময় সমস্যার সৃষ্টি হলে ফ্লোচার্ট দেখে সমস্যার সমাধান করা যায়। দক্ষ প্রোগ্রামার সবসময় ফ্লোচার্ট তৈরি করে প্রোগ্রাম তৈরি করেন।
    ক্স প্রোগ্রামিং ভাষা নির্ধারন : ফ্লোচার্ট তৈরির পরের ধাপ হচ্ছে প্রোগ্রামিং এর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ভাষা নির্বাচন করা। সাধারণভাবে কোনো অ্যাপ্লিকেশন বা কাস্টমাইজড প্যেিকজ তৈরির সময় নির্দিষ্ট একটি প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করা হয়। কখনো কখনো একটি বিশেষ প্রোগ্রামিং ভাষার পক্ষে হয়তো বা বিশেষ কোনো কাজ করা সম্ভব নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে অন্য কোনো ভাষার সহায়তা নেয়া যেতে পারে। উল্লেখ্য কোনো কোনো সফটওয়্যার কোম্পানি নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য বিশেষ কোনেনা প্রোগ্রামিং ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। অনেক সময় প্রোগ্রামিং ভাষাটি কঠিন পদ্বতিতে যেমন- মেশিন কোড নির্বাচন না করে অ্যাসেম্বলারের সাহায্য নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে, অথবা কোনো হাই লেভেল ভাষা নির্বাচন করতে বলা হয়ে থাকে। অনেক প্রোগ্রামার আছে তাদের কাজের দক্ষতা ও ভালো সফটওয়্যার উপহার দেয়ার জন্য নিজ থেকেই কোনো নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং ভাষাকে নির্বাচন করে থাকেন।
    ক্স প্রোগ্রাম রচনা করা: এ ধাপে প্রোগ্রামিং লেখার জন্য যে নির্দিষ্ট ভাষাটি নির্বচন করা হয়েছে সেই প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যকহার করে প্রোগ্রাম রচনা করা হয়।
    ক্স প্রোগ্রাম কম্পাইল করা: হাই লেভেল ল্যাংগুয়েজে রচিত প্রোগ্রাটি কম্পিউটার বুঝতে পারে না। তাই হাই লেভেল ল্যাংগুয়েজে রচিত প্রোগ্রাটিকে মেশিন ল্যাংগুয়েজে রুপান্তর করে দিতে হয়, অথাৎ কম্পাইল করতে হয়। প্রোগ্রাম কম্পাইল করার সময় প্রচুর কম্পাইলিং এরোর ভুল কুঁজে পাওয়া যায়। কম্পাইলারের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করলে প্রোগ্রাম তম্পাইলিং এর কাজটি নিখুঁত ভাবে করা যায়।
    ক্স প্রোগ্রাম পরীক্ষণ ও সংশোধন : সাধারণভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় প্রোগ্রামেই কিছু ভুল ত্রুটি থাকে । এগুলো নানা কারণে হতে পারে। যেমন – প্রোগ্রামের ভাষা এবং অপারেটিং সিস্টম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণার অভাব, ডাটার জটিলতা ইত্যাদি কারণে)। প্রোগ্রামের এ ভুল এুটি সমূহকে বাগস বলে। প্রোগ্রামের এসব ভুল ত্রুটি দূর করার প্রএিুয়া ডিবাগিং বলা হয়। উপযুক্ত কমান্ডের সাহায্যে এ সমস্যা গুলো সমাধান করা যেতে পারে। এজন্য প্রোগ্রাম বাজারজাতকরণের পূর্বে বিভিন্ন ধরনের আলফা টেস্ট , বিটা টেস্ট ইত্যাদি করা হয়। এ সমস্ত টেস্ট প্রোগ্রামের যথার্থতা বা নির্ভুলতা বিচাওে যথেষ্ট সহায়ক হয়ে থাকে।
    ক্স ডকুমেন্টেশন করা: ডকুমেন্টেশন হচ্ছে প্রোগ্রাম পরিকল্পনার বিভিন্ন্ ধাপসমূহ যেমন- অ্যারগরিদম , ফ্লোচার্ট, প্রোগ্রাম কোডিং, বাগ, বিাগ, ফলাফল ও ব্যবহারকারীর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ ইত্যাদিও লিখিত বিবরণ ডকুমেন্টে আকাওে লিপিবদ্ধ করা, যাতে পরবর্তীতে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে তা সমাধান করা সহজ।
    ক্স ইনস্টলেশন করা: প্রোগ্রামসমূহের সন্তোষজনক পরীক্ষার পূর্ব পর্যন্ত এদেরকে ডেবেলমেন্ট লাইব্রেরিতে রাখা হয়। পরীক্ষার সন্তোষজনক ফল লাভের পর প্রোগ্রামসমূহকে প্রোডাকশন লাইব্রেরিতে লোড করা হয়। এ লাইব্রেরিকে ইনস্টলেসন বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এ ইনস্টলেশন অনেক জটিলও হতে পারে, তবে দলীয়ভাবে করলে এ পর্যায়ে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
    ক্স রক্ষণাবেক্ষণ করা: প্রোগ্রাম পরিকল্পনার সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণ। রক্ষণাবেক্ষণ বলতে প্রয়োজনীয় নানা কারনে প্রোগ্রামের ছোটোখাটো পরির্বতন ও পরিবর্ধনকে বুঝায়। যেকোনো সফটওয়্যার যখন বাজাওে আতার একটি ভার্সন বাজাওে আসে। প্রতিনিয়ত সফটওয়্যার গুলোর ভার্সন সংখ্যা উওরোওর বৃদ্ধি পেতে থাকে। সফটওয়্যাকে নানাবিধ কারণে পরির্বতন পরিধান করতে হয় এবং উন্নত সংস্করণে রুপ দিতে হয়। আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত ভার্সন বের করা হয়। অনেক সময় এক সফটওয়্যার অন্য অপারেটিং সিস্টেমে কাজ নাও করতে পারে। সেক্ষেত্রে সফটওয়্যারটিকে পরবর্তীতে নতুন অপারেটিং সিস্টেমে কাজ করার উপযোগী কওে তৈরি করা হয়।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.